3:06 pm - Sunday September 26, 3509

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করতেই পারি ! তাতে কার কী ?

প্রবাসীর স্ত্রী ঘরে একা থাকেন। প্রতিবেশী যুবকরা ইচ্ছে করলে তাকে ধর্ষণ করতেই পারে! তাদের বাধা দেয়া কেন? ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী।

প্রাণভয়ে স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকছেন মামলার বাদী। শুধু তাই নয়, মামলা তুলে না নিলে বাদীকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাদীর বাড়ির লোকদের চলাচলের সব পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসী বলাবলি করছেন, প্রবাসীর স্ত্রী ঘরে একা থাকেন। তাকে ধর্ষণ করলেও বলা যাবে না। মামলা করতে গেলেও হত্যার হুমকি। তাহলে কি স্বামী ছাড়া কোনো গৃহবধূ একা থাকতে পারবে না?

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে। গেল ৭ জুলাই রাতে ওই ঘটনার পর মুকসুদপুর থানায় মামলা করেন ঘটনার শিকার গৃহবধূ। ধর্ষণচেষ্টা মামলা তুলে তারপর থেকেই প্রবাসীর স্ত্রীকে অব্যাহত চাপ দিয়ে যাচ্ছে আসামি পক্ষ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুকসুদপুরের যাত্রাবাড়ী গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গেল ৭ জুলাই ডুমুরিয়া গ্রামে বাবার বাড়িতে আসেন। ওই রাতে চার্জার লাইট নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠোনে টিউবওয়েলে পানি আনতে যান। এসময় প্রতিবেশী আমজাদ শেখের ছেলে ফারুক শেখের (৩৫) নেতৃত্বে তিনজন তার হাত-মুখ চেপে ধরে।

পরে একজন ধারালো ছোরা ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে পাশের কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে গৃহবধূকে তারা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এদিকে, কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই গৃহবধূর মা লাইটসহ অন্যদের নিয়ে কলাবাগানের দিকে এগিয়ে গেলে দৃর্বৃত্তরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মুকসুদপুর থানায় মামলা করেন প্রবাসী স্ত্রী। তবে মামলা দায়েরের পর থেকেই তা তুলে নিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে আসামিপক্ষ। এমনকি মামলা তুলে না নিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে আসামিরা।

তবে এতোকিছুর পরেও মামলা তুলে না নেয়ায় গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের চলাচলের সব রাস্তায় বেড়া দিয়ে মূলত পরিবারটিকে গেল চারদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বেড়া অপসারণ করে আসামিপক্ষ। তবে অত্যাচার, নির্যাতন ও চলাচলের পথে বেড়া দেয়ার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী মুকসুদপুর থানায় লিখিত আবেদন করেছেন।

জানতে চাইলে আসামি ফারুক শেখ বাদীকে চাপ ও হুমকি দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, গেল ৭ জুলাই ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রবাসীর স্ত্রী স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতে বর্তমানে থাকছেন। হয়রানি করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আসামি ফারুক শেখ স্বীকার করেন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের চলাচলের পথে বেড়া দেয়া হয়েছিল।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর একটি আবেদন পেয়েছি। এ ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

Filed in: নারী
[X]