3:06 pm - Tuesday September 26, 0445

মিয়ানমারকে চাপ দিতে ১৫৭ ব্রিটিশ এমপির আহ্বান

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ১৫৭ জন এমপি।

অলপার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর ডেমোক্রেসি ইন বার্মার কো-চেয়ারম্যান রুশনারা আলী এমপি স্বাক্ষরিত পত্রে ব্রিটিশ এমপিরা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতোই ব্রিটিশ সরকার মিয়ানমারের জনগণের বর্তমান সংকট মোকাবেলায় বিশ্বনেতৃত্ব প্রদর্শন করবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে বুধবার লেখা এক চিঠিতে তারা বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাসে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও মানবিক সংকট নজিরবিহীন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ প্রয়োজন।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘এতে প্রতীয়মান হচ্ছে ২৫ আগস্ট সরকারি ভবনগুলোতে হামলায় জড়িত আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরগা) সদস্যদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে দেশটির সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিশাল এলাকা জনশূন্য করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ওই হামলাকে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর রিপোর্ট থেকে আমরা দেখছি যে, মিয়ানমারের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, লোকদের সারিবদ্ধভাবে জোরপূর্বক শোয়ানো হয় এবং অতঃপর তাদের মাথার পেছনে গুলি করা হয়, শিরশ্ছেদ ও ধর্ষণ করা হয়, লোকদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং শিশুদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালানো হয়।

এতে বলা হয়, সরকারিভাবে যে কয়েক শ লোকের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য রোহিঙ্গা সংস্থাগুলোর হিসেবে এই সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি এবং তা দুই হাজার থেকে তিন হাজারের মধ্যে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি দুটি অগ্রাধিকারের কথা বলা হয় চিঠিতে। একটি রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং অপরটি জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণ করা। ‘আমরা মনে করি, সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধান মিন অং হ্লায়িংকে ব্যাপকভাবে চাপ দেয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘সেনা হামলা বন্ধে সামান্যতম বিশ্বাসও যদি না সৃষ্টি হয়, তাহলে প্রভাব খাটাতে হবে, অবশ্যই প্রভাব খাটাতে হবে।’

ব্রিটিশ আইন প্রণেতাগণ বর্তমানে ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্মিজ সেনাবাহিনী যেভাবে মারাত্মক আকারে সহিংসতার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তা পর্যালোচনা করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন।

তারা বর্তমানে চলমান বার্মিজ সেনাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করার জন্যও সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে শর্তাবলী ও অঙ্গীকার পুনর্গ্রহণ ও সেদেশে আর কোনো প্রকার সামরিক সবঞ্জাম রফতানি বন্ধ করতে হবে।’

ব্রিটিশ এমপিরা বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কাউন্সিলে জরুরি প্রস্তাব গ্রহণ ও আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মায়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবে সমর্থন প্রদানের জন্যও ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

চিঠিতে তারা নতুন রোহিঙ্গা ইস্যুতে সৃষ্ট মানবিক চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দেরও আবেদন করেন।

কফি আনানের নেতৃত্বাধীন রাখাইন কমিশনকে স্বাগত জানিয়ে তারা অর্থনৈতিক সম্পদ ও বিশেষজ্ঞ প্রদান করে দ্রুত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এই চিঠিতে ব্রিটিশ আইন প্রণেতাদের মধ্যে স্বাক্ষর করেন, অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর ডেমোক্রেসি ইন বার্মার কো-চেয়ারম্যান ব্যারোনেস গ্লিনিজ কিন্নক, এপিপিজি ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান ক্লয়েড, টিউলিপ সিদ্দিক, এড্রিন বেইলে, আফজাল খান, অ্যান কফে, চি অনওয়ার্শ, ব্যারোনেস ডোরোথেয়া গ্লিনেজ থ্রনটন, এলিয়নর স্মিথ, এঙ্গেলা ইগল, বব, ব্ল্যাকম্যান, বারবারা কীলে, এলিসন ম্যাকগভর্ন, অ্যালেক্স কুমিনঘাম ও ইভেটী কোপার।

 

 

Filed in: আন্তর্জাতিক
[X]