7:41 am - Tuesday February 21, 2017

এরা নিজের খেয়ে মানুষকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে বেড়ায়

ha-23মোবাইল ফোনে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে অর্থ আদায় করছে একটি চক্র। দীর্ঘদিন থেকে কৌশল বদল করে তারা এ কাজ করছে। পুরস্কার জেতা বা ফোন কোম্পানির পুরনো গ্রাহক হিসেবে রিওয়ার্ড প্রাইজের কথা বলে বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহকদের কাছ থেকে কৌশলে এ চক্রটি অর্থ আদায় করছে। পুরস্কার নেয়ার আগে রেজিষ্টেশন বাবদ এক থেকে তিন হাজার টাকা অথবা যোগাযোগের জন্য কোন নম্বরে টক টাইম কিনে দেয়ার কথা বলে ওই চক্রটি অর্থ আদায় করে। এই মুহূর্তে নগদ পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছেন বিকাশ একাউন্টধারী মোবাইল ফোনের এই (০১৮১৫৫১৫৫০৬) নাম্বরটির মালিক। পুরস্কারের পাঁচ হাজার ডলার আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌছে দেওয়া হবে আপনাকে। তার আগে এক্ষুনি যোগাযোগ করুণ এ নাম্বারে ০১৮৫০৮৬৬২৩৬।

গতকাল সোমবার দুপুরে বিকাশ কাস্টমার সার্ভিস সেজে সেলফোনে এ ক্ষুদেবার্তাসহ কলটি পান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের মুদি দোকানদার মো. ফারুক হোসেন। এরপর একই নাম্বার থেকে রাত ১০টা ২৬ মিনিটে আরেকটি ক্ষুদেবার্তা আসে ফারুকের সেলফোনে। ০১৮৫০-৮৬৬২৩৬ নাম্বারটিতে ফারুক যোগাযোগ করলে চাওয়া হয় তার বিকাশ একাউন্ট নম্বর ও একাউন্টের পিন নম্বর। এরপরও ফারুক বুঝতে পারেননি তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ওই ক্ষুদেবার্তায় বলা হয়, ‘আপনার পুরস্কারের পাঁচ হাজার ডলার নিশ্চিত করতে হলে এক্ষুণি আমাদের ০১৭৭৭-৭৫৩৭৫৮ নম্বরে ১৪ হাজার ৫০০, ০১৭৯৭-৬১৭৫২২ নম্বরে ১০ হাজার ও ০১৮৫০-৮৬৬২৩৬ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে যোগাযোগ করুন। এরপরই আপনাকে পৌঁছে দেওয়া হবে আপনার পুরস্কারের অর্থ ও বিকাশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা।

কথামতো টাকা পাঠিয়ে রাত ১১টায় বিকাশ হেল্পলাইনে গ্রাহক সেবায় যোগাযোগ করলে গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা বলেন, এ রকম একটি চক্র সারা দেশে বিভিন্ন সেলফোন নম্বরে ক্ষুদেবার্তা ও কল দিচ্ছে। এটি প্রতারণা। ইন্টারনেটের সাহায্যে প্রতারকরা বিভিন্ন আইডি ও নম্বর থেকে এসব ক্ষুদেবার্তা ও কল পাঠাচ্ছে। এদের ফাঁদে পা দিলে গ্রাহকরা প্রতারিত হবেন। এ ব্যাপারে সচেতন থাকার জন্য আমরা গ্রাহকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী ফারুক বলেন- পুরস্কারের কথা বলে তার কাছে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি যাচাই করতে গেলে ওই চক্রটি তাকে গালিগালাজ করে। পরে ওই নম্বরে ফোন দিয়ে আর পাওয়া যায়নি। এ গ্রাহক আরও অভিযোগ করেন, প্রতারকরা কোন না কোন উপায়ে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে তাদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ রকম কয়েকটি ঘটনা তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, সম্ভবত প্রতারকচক্রটি ব্যাবসায়ীদের বিকাশ একাউন্টধারী সেলফোনের নম্বর সংগ্রহ করে পুরস্কারের ফাঁদ পাতে। এরপর তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিয়ে উল্টো তাদের ব্লাকমেইল করে। তিনি আরো বলেন-এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

Filed in: আজব খবর
[X]