2:59 am - Tuesday January 24, 2017

‘আমি থাকি, আর না থাকি, এই ভিডিও যত দূর সম্ভব গোটা দেশে ছড়িয়ে দিন’

সকালের জলখাবারে কেবল একটা পরোটা। তার সঙ্গে আর কিছু নয়। না আচার, না সবজি! দুপুরের খাবারে ডাল, যাতে হলুদ আর লবণ ছাড়া কিছু থাকে না! সঙ্গে রুটি।আর রাতে? খাবারে টান পড়লে ঘুমাতে যেতে হয় পেটে কিল মেরেই!

এই নাকি ভারতীয় জওয়ানদের খাবার! পাক সীমান্তে প্রহরারত সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর এক জওয়ান সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনটি ভিডিও পোস্ট করে এমন অভিযোগই তুলেছেন। যা ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে বিএসএফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ওই বিএসএফ জওয়ানের নাম তেজ বাহাদুর যাদব। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ভারত-পাক সীমান্তে কর্মরত। সম্প্রতি ফেসবুকে মিনিট চারেকের পর পর তিনটি ভিডিও পোস্ট করেছেন বছর চল্লিশের ওই জওয়ান। সেল্ফি মোডে তোলা সেই ভিডিওয় তিনি সীমান্তে প্রহরারত জওয়ানদের দৈনন্দিন দুর্দশার কথা জানিয়েছেন। কী ভাবে ডিউটি করতে হয়, কত ক্ষণ ধরে কোন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়, সিনিয়র সহকর্মী এবং আধাকারিকরা তার পরেও কী রকম ‘অত্যাচার’ করেন তাঁদের সঙ্গে— সমস্তটাই অভিযোগের বয়ানে উঠে এসেছে ওই ভিডিওয়। এমনকী, প্রতি দিন তাঁরা কী খেয়ে এমন ‘কঠিন কর্তব্য’ পালন করেন, ভিডিওতে তা-ও তুলেছেন ওই জওয়ান। আর সে সব প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সংবাদমাধ্যমেও এখন শিরোনামে তেজ বাহাদুর।

ওই ভিডিওয় তেজ বাহাদুর নিজেই দুর্দশার কাহিনি যখন ‘দেশবাসী’কে শোনাচ্ছেন, পিছনের পাহাড়ে তখন বরফ পড়ছে। ধূসর পাহাড়ের গায়ে তুলোর মতো বরফ পাতা। তেজ বাহাদুর বলছেন, ‘আপনাদের এই ছবি দেখে হয়তো ভাল লাগছে। কিন্তু আমাদের অবস্থা কেউ ভাবে না। কেউ দেখেও না।’ এই বরফের মধ্যেই টানা ডিউটি করতে হয় তাঁদের। বরফ হোক, বৃষ্টি, হোক, ঝড়ঝঞ্ঝা হোক— ১১ ঘণ্টা টানা দাঁড়িয়ে ডিউটি করাটাই নিয়ম। যাদবের অভিযোগ, এক জন জওয়ানকে অনেক কষ্ট করে ডিউটি করতে হয়। আর সে জন্য শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন। কিন্তু, যে খাবার তাঁদের জোটে তাতে বেশি দিন এ ভাবে কাটানো সম্ভব নয়।

তবে, এই ব্যবস্থায় সরকারের কোনও দোষ দেখছেন না তেজ বাহাদুর। তাঁর কথায়, ‘‘সরকার সাধ্য মতো সমস্ত জিনিসই পাঠাচ্ছে। ভাঁড়ারে সে সব পৌঁছচ্ছেও। কিন্তু, তার পরেই তা বাজারে চলে যাচ্ছে।’’ কী ভাবে জওয়ানদের জন্য বরাদ্দ খাবার খোলা বাজারে চলে যাচ্ছে, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। বাহিনীরই এক শ্রেণির অসাধু অফিসারের দিকে আঙুল তুলেছেন তেজ বাহাদুর। আর এই বিষয়টি সকলের নজরে আনতে চেয়েছেন বলেই ভিডিও তুলেছেন বলে দাবি তাঁর।

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর চাকরি হয়তো না থাকতে পরে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই জওয়ান। কারণ? তাঁর কথায়, ‘‘আধিকারিকদের হাত অনেক বড়। তাঁরা আমার সঙ্গে যা খুশি করতে পারেন।’’ আর সে কারণেই তিনি বলছেন, ‘‘আমি থাকি, আর না থাকি, এই ভিডিও যত দূর সম্ভব গোটা দেশে ছড়িয়ে দিন। যাতে সকলে সবটা জানতে পারে।’’

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর টুইট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি লিখেছেন, ‘বিএসএফ জওয়ানের পোস্ট করা ভিডিওটি দেখেছি। বাহিনীর কাছে দ্রুত রিপোর্ট চাইতে নির্দেশ দিয়েছি মন্ত্রককে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছি।’’ এর পরেই নড়েচড়ে বসেছে বিএসএফ। তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ-এর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে না।’’ যদিও তাঁর দাবি, ২০ বছরের চাকরি জীবনে মোট চার বার শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তেজ বাহাদুরকে। এর আগে এক সিনিয়র অফিসারের সঙ্গে বাজে ব্যবহারের কারণে চাকরি খোয়াতে বসেছিলেন ওই জওয়ান। কিছু দিন আগে নাকি তেজ বাহাদুর স্বেচ্ছাবসরের জন্য আবেদনও করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

Filed in: আন্তর্জাতিক
[X]